Actions

Work Header

Rating:
Archive Warning:
Category:
Fandoms:
Character:
Additional Tags:
Language:
বাংলা
Collections:
Anonymous
Stats:
Published:
2025-05-31
Updated:
2026-05-20
Words:
1,630
Chapters:
3/?
Comments:
12
Kudos:
8
Bookmarks:
1
Hits:
81

একটা আষাঢ়ে গল্প

Summary:

"কখনো ভূত দেখছেন?" আমি প্রশ্নটি শুনে কিছুটা অবাক হয়ে তাকালাম আপনার পাশের লোকটির দিকে। তারপর হেসে দিয়ে বললাম, "ভূত? চব্বিশ ঘন্টা আলোকিত এই শহরে ভূত বেরোবে কেমন করে?"
"আলোয় বুঝি ভূত বের হয় না?"
"থাকলে তো বের হবে।" আমি আবার হাসলাম।
"অহ, তাহলে আপনি ভূতে বিশ্বাস করেন না।" লোকটির মুখটা কিছুটা ম্লান হয়ে গেলো।
ভারী অদ্ভুত তো!

Chapter Text

আজ সকাল থেকেই ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি, এমন সময় একটা লোক আমার পাশে এসে দাঁড়াল। প্লাটফর্মে প্রচন্ড ভীড়, তার উপর একদল লোক এক জায়গায় জড়ো হ‌য়ে গোল পাকাচ্ছে। আমি অবশ্য ভীড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। পকেটমারদের জন্য এমন ভীড় আদর্শ।

পকেটে কিছু টাকা আছে, তা সাবধানে সামলিয়ে পাশে তাকালাম।

আমি তাকিয়ে একটু চমকে উঠলাম। লোকটি দেখতে খুব সুদর্শন! ঘন কুচকুচে কালো চুল, আয়ত চোখ, চেহারার গড়নটাও আকর্ষণীয়। তবে গায়ের রংটা একটু বেশি সাদা, যেন বেচারা রোদের দেখা পায়নি অনেকদিন; ঠিক যেমন ইটের নীচে পড়ে থাকা ফ্যাকাশে ঘাস।

হয়তো একটু বেশি সময় নিয়ে তাকিয়ে ছিলাম, কারণ লোকটি হঠাৎ হেসে বলল, "কিছু বলবেন?"

আমি কিছুটা হকচকিয়ে গেলাম। "না না, কিছু না!" আমি তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে নিলাম। কি লজ্জা! লোকটি কি ভাববে? 

ধরণী দ্বিধা হও, আমি তাতে প্রবেশ করি!

"আজকে ট্রেন মনে হয় সময়মতো আসবে না।" লোকটি যেন আমাকে বিব্রতকর অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য কথা বললো।

আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। মুচকি হেসে বললাম, "এদেশে কখনো ঠিক সময়ে ট্রেন আসে নাকি? এলেই বরং অবাক হবো।"

ভেবেছিলাম সেও সায় দিয়ে হাসবে কিন্তু দেখলাম উল্টো সে কেমন গম্ভীর হয়ে গেলো। "না, আজকের দিনটা অন্যরকম।"

আমি কিছুটা ভ্রু কুঁচকে তাকালাম। "কেন এমন মনে হলো?"

লোকটি যেন কিছুটা অবাক হল আমার প্রশ্নটা শুনে, পরক্ষনেই চোখ নামিয়ে নিল, ফর্সা গাল কিছুটা লাল হয়ে গেল।

লোকটি কি লজ্জা পেলো? অবশ্য এতে লজ্জা পাওয়ারই বা কি আছে?

"আপনি কি কখনো ভূত দেখেছেন?"

এবার আমার অবাক হওয়ার পালা। হঠাৎ করে ভূতের প্রসঙ্গ আসলো কোথা থেকে?

"ভূত? এই শহরে?" আমি না হেসে পারলাম না। "আজকাল গ্ৰামের মানুষেরাই ভূত দেখে কিনা সন্দেহ আছে, আর এই চব্বিশ ঘন্টা আলোকিত শহরে ভূত বেরোবে কেমন করে?" 

"কেন? আলোতে বুঝি ওরা বেরোয় না?"

"থাকলে তো‌ বের হবে। মানুষ থাকারই জায়গা নেই আবার ভূত। অবশ্য বন জঙ্গল হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু সেখানেও তো আজকাল মানুষের রাজত্ব। ভূত বাবাজি দের দারুন সমস্যাই হলো।" আমি মজা করে হাসলাম।

"ওহ, আপনি মনে হয় এসবে বিশ্বাস করেন না।" তার মুখটা ম্লান হয়ে, কিছুটা আহত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

কি অদ্ভুত! লোকটা কি সত্যিই ভূতে বিশ্বাস করে?

পাগলা গারদ থেকে ছাড়া পায়নি তো? নাকি এটা কোন প্র্যাঙ্ক? আজকাল তো বিদেশীদের দেখাদেখি আমাদের দেশেও এইসব চলছে। অবশ্য এই কোলাহল পূর্ণ জায়গায় এসব করলে উত্তম মাধ্যম খাওয়ার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে।

"আপনি কখনো ভূত দেখেছেন?" আমি পাল্টা জিজ্ঞেস করলাম। দেখিনা কী হয়? হয় পাগল নতুবা টিকটক ছাগল। অবশ্য এই দুই জাতির মাঝে তফাৎ খুব সামান্যই।

"আমি যদি এর উত্তর দেই তবে আপনি আমাকে পাগল ভাববেন।" সে শান্ত গলায় উত্তর দিল।

সে তো আর জানে না যে আমি তাকে ইতোমধ্যেই পাগলের কাতারে ফেলে দিয়েছি। অবশ্য মনের সব কথা তো আর মুখে বলা যায় না। সভ্যতা বলতেও একটা ব্যাপার আছে।

আমি প্লাটফর্মের ঘড়ির দিকে তাকালাম। ঠিক দুঘন্টা আগের মতই আড়াইটা বেজে আছে। সরকারি ঘড়ি বলে কথা! 

কিছুটা বিরক্তি ধরে গেল। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে কে জানে? সময় তো কাটতে চায় না।

পাশের অতি সুদর্শন ব্যক্তিটি যদি নারী হতেন, তাহলেও চলতো। তখন ভূত কেন, পেঁয়াজ রসুনের দাম নিয়ে কথা বললেও ভালো লাগতো।

যদিও বাঙালি ভূতের গল্প খুব পছন্দ করে, এমন বৃষ্টির দিনে তো আরো জমজমাট হবার কথা। কিন্তু আমার কখনোই এসব আষাঢ়ে গল্পের প্রতি কোন টান ছিল না। ভবিষ্যতেও হবে কিনা সন্দেহ আছে।

লোকটি এখনও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো উত্তরের অপেক্ষায় আছে।

কি মুশকিল!

"তা আপনি যাবেন কোথায়?" আমি প্রসঙ্গ ঘোরানোর জন্য বললাম।

লোকটি কিছুটা হতাশ হল। আমার নির্লিপ্ততায় সে আহত।

"আমি কোথাও যাবো না।"

"আত্মীয়-স্বজন কেউ আসবে?" জিজ্ঞাসা করলাম।

"না, তেমন কিছু না। আমি মাঝে মাঝে এখানে আসি।"

এ আবার কেমন কথা? কেউ অপ্রয়োজনে ট্রেন স্টেশনে আসে নাকি? 

"আমি জানি আপনি কি ভাবছেন। আসলে-" কথাটা শেষ করার আগেই ট্রেনের বাঁশির আওয়াজ পেলাম। আমি তৎক্ষণাৎ এগিয়ে গেলাম। আশেপাশের লোকজনও এগিয়ে আসছে। ট্রেন ধরার চিন্তায় ঐ অতি সুদর্শন পুরুষটির কথা ভুলে গেলাম। 

কোনমতে ভীড় ঠেলে জানালার পাশের সিটে জায়গা হলো। বাইরে তাকিয়ে দেখি সেই লোকটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে এবং আমার দিকেই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। 

কী অদ্ভুত চাহনি!

কিন্তু বেশি কিছু ভাবার আগেই ট্রেন ছেড়ে দিল, আর শুরু হলো আমার ব্যস্ত জীবন। ভুলেই গিয়েছিলাম লোকটির ব্যাপারে যখন না দেখে হলো তার সঙ্গে আবার, সেই রেল স্টেশনে।