Actions

Work Header

Rating:
Archive Warning:
Fandom:
Language:
বাংলা
Series:
Part 2 of Bengali Wangxian fics
Stats:
Published:
2022-09-25
Updated:
2022-09-25
Words:
782
Chapters:
1/?
Comments:
13
Kudos:
19
Bookmarks:
1
Hits:
154

তোমারি লাগি মোর এ বীণা বাজে

Summary:

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাইনি
বাহির পানে চোখ মেলেছি
আমার হৃদয় পানে চাইনি

Chapter 1: দর্পণ

Chapter Text

এখন রাত্রি তৃতীয় প্রহর। জানি, নিয়মানুযায়ী আমার নিদ্রামগ্ন থাকার কথা। চেষ্টা করিয়াছিলাম। মধ্যরাত্রে উঠিয়া প্রদীপ জ্বালিলাম, তখন রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর অতিক্রান্ত হইয়াছে। অর্ধধূপকাল অন্ধকারে প্রতীক্ষা করিয়া যখন অবশেষে দর্পণে চাহিলাম, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম তখনও উজ্জ্বল হইয়া আছে। আমি চোখ বুজিলাম। সচেতনতার পর্দা ভেদ করিয়া শেষ স্বপ্নের ছায়া ধীরে ধীরে অবচেতনের কুটিরে অন্তর্হিত হইয়া গেল। লজ্জায়, নিজের প্রতি ক্ষোভে আমার শরীর কাঁপিতেছিল। দু ফোঁটা অশ্রু পড়িয়া মনটা কিঞ্চিৎ শান্ত হইলে পর দীপখানি তুলিয়া পুনরায় দর্পণ সম্মুখে ধরিলাম। শিরবন্ধনী শিথিল হইয়াছে, হয়ত কোনো বাহ্যস্পর্শে এখনই খুলিয়া মৃত্তিকা চুম্বন করিবে। পরোয়া করিলাম না। এটুকু ক্ষণের মধ্যেই আমার অবয়ব রাত্রিজাগরণের ক্লেশ ফুটিয়া উঠিয়াছে। কম্পমান প্রদীপশিখা আমার আর্দ্র আঁখির ছায়ায় জ্বলিতেছে, আমার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হইতে তীক্ষ্ণতর হইতেছিল যখন সহসা যেন কাহার ছায়া আমার চোখের কোনে ভাসিয়া উঠিল। প্রদীপ নিভিয়া গেল। 

লিখিতে বসিয়া যখন কালিপাত্র কাগজের উপর পড়িয়া গেল, মনে হইল জ্যোস্নাস্নাত রাত্রে পাশের পুষ্করিনীতে গিয়া ঝাঁপ দিই। মনকে শান্ত করিয়া অবশেষে লিখিতে বসিলাম - জিংশির কোন এক গবাক্ষ হইতে নিশীথ যামিনীর সমীরণ প্রবেশ করিতেছে। পাশে কিছু পুঁথি ছিল, পুঁথির বিষয়বস্তু কম্পমান শিখায় ভৌতিক ভাবে কাঁপিতেছে। একক ধূপকাল বৃথা প্রচেষ্টা করিয়া ' নিয়মাবলী : আচার, ন্যায় ও বিধি ' সহস্তে সরিয়া রাখিলাম। বুঝিলাম, নিজেকে ঠকাইয়া বিড়ম্বনায় ফেলিবার দিন শেষ হইয়া আসিয়াছে। মিথ্যা বলিব না আর - এ কোনো আত্মা নয়, কোনো জটিল মন্ত্র বা অভিশাপও নয়। দীর্ঘ এক চান্দ্রমাস হেন মন্ত্রঃপূত পুঁথি নেই আমি জপ করিনাই, হেন যোগসিদ্ধ প্রক্রিয়া নাই আমি পরখ করিয়া দেখি নাই। ধ্যানে বসিয়াছি, মন্দির গিয়াছি, তিন প্রহর ঝর্নার নীচে বসিয়া ' আত্মসংযম ' তপ করিয়াছি, গোপন দৈব অস্ত্রাগারের প্রত্যেকটি দৈব অস্ত্রকে স্পর্শ করিয়াছি - কোনবার সামান্য কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দেখা মেলে নাই। প্রেত, পিশাচ, রাক্ষস বা কোনো দুরাত্মা - সে মহাবলশালীই হোক না কেন এত দৈব গণ্ডি হইতে লুকাইয়া থাকিতে পারিত না…তাহলে?...

…আমি এত নিয়ম ভঙ্গ করিতেছি কেন?

 

স্মরণে আসে যেদিন প্রথম নিয়ম ভঙ্গ করিয়াছিলাম। ভাবিতে পারিনাই তাহা শুধু নিয়মভঙ্গের সূত্রপাত ছিল মাত্র…

জিয়াং কূলপ্রমুখের জ্যেষ্ঠকন্যা ও রাজকুমার জিয়াং কে শিষ্যদলের সাথে বিশ্রামাগারে পৌঁছে দিবার ব্যবস্থা করিবার পর কিষানের মৃত অথবা তাহার কথা মত ' মৃত মানবপূত্তলি ' র রহস্য নিয়ে ভ্রাতা ও পিতৃব্যর সাথে আলোচনা নিমিত্ত ব্যাস্ত ছিলাম। সূর্যাস্তের পর প্রধান দ্বার রুদ্ধ হইল। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে আমি প্রাকার ঘনিষ্ঠ কুটিরে রহিবার সিদ্ধান্ত নিলাম। ওরম চোরের ন্যায় প্রাকার পার হইয়া, মান মর্যাদার বিসর্জন দিয়া অবৈধ প্রবেশকারী রাজকুমার আমি কস্মিনকালেও দেখিনাই। আমাকে দেখিয়া সে প্রাথমিকভাবে অপ্রতিভ হইয়া গিয়াছিল ঠিকই কিন্তু তাহা ক্ষণিকের সময় মাত্র। " দ্বার রুদ্ধ হইবার পর প্রবেশ নিষেধ " - তাহার অভিব্যক্তির সেরূপ পরিবর্তন হইল না - " ইয়ুনসেনে সুরা নিষিদ্ধ " - শুনিয়া সে যেন ভারী আমোদ পাইল। আমার সহ্য হইল না। বিষেণ কবাট হইতে মুক্ত করিয়া সুতীব্রতার সহিত চালনা করিলাম। আশ্চর্য! সে তাহার তলোয়ার কবাট মুক্ত করিল না। করিয়াই নিঃক্লেশে আত্মরক্ষা করিতে লাগিল। কী অভূতপূর্ব তলোয়ারবিদ্যা! প্রাসাদ চত্বরের অভ্যন্তরে বিনা কারণে দ্বৈতে আহ্বান করা - নিয়মবিরুদ্ধ কিন্তু উহার তলয়ারবিদ্যার পুঙ্খানুপু্ঙ্খ পরখ করিবার লোভেই আমার বুদ্ধি হইতে নিয়ম বিলীন হইয়া গেল…

এরপর বহুবার এরূপ হইয়াছে - আকস্মিক আমার দ্বারা নিয়ম ভঙ্গ হইয়াছে। নিয়মভঙ্গ করিলে প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ শাস্তিভোগ করিতে হয় - এ তো জন্মাবধি বুদ্ধস্তোত্রের মত জানিয়া আসিয়াছি। কিন্তু এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে কি কি নিয়ম ভঙ্গ করিয়াছি - তাই বিস্মরণ হইয়া যাই! দিনশেষে অবসর পাইলে কিছু মনে পড়ে, নাহইলে মনে পড়ে না! প্রথম প্রথম ভয় করিত, আরো মনসংযোগ করিয়া অনুশাসন লিখতাম কিংবা ধ্যানে বসিতাম, কিন্তু একটা সময় পর…আমি হাল ছাড়িয়া দিয়াছি। কোনরূপে এখন চেষ্টা করি উহার থেকে দূরে থাকিবার। জানিনা…জানিনা…কি হইতেছে, কেন হইতেছে…হে বুদ্ধ! কৃপা করো, এ অন্তর্জাল হইতে মুক্তি দাও, আমি প্রকাশ দেখিতে চাই। দিনালোকে আমি সত্যকে প্রত্যক্ষ করিতে চাই। সত্যের রূপ ভয়াল কি সুন্দর, তিক্ত কি মধুর, অমৃত কি গরল - আমি ভাবিতে চাহি না। এই নিবিড় মনস্তাত্ত্বিক বেড়াজাল কাটিয়া আমি বাহিরে আসিতে চাই। প্রতীত হইতেছে, এক অদ্ভুত খাতে আমার ভাবনাধারা বহিতেছে…কিন্তু যখন সে ভাবনাতরীতে ভাসিয়া আমি চলিতেছি তখন ভয় লাগিতেছে না, আর সেখানেই তো ভয়! এ ভাবনার শুরু কোথায় আমি জানিনা, শেষ সম্পর্কে আমি অবগত নই, যেন এক রাজবন্দীর হাত বাঁধিয়া তাহাকে এক অপরূপ সুন্দর উপত্যকায় ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছে…সে ময়ূরপঙ্খীর মাঝি আছে, কিন্তু তাহার গোপন হইয়া আসিয়াছে এতদিন…আজ কী আমি তাহাকে চিনিতে পারিয়াছি? 

…মনে মনে নিজেকে বহুবার প্রশ্ন করিয়াছি - এ জগতে এরূপ মানুষ থাকিতেও পারে যে এত অবলীলায় নিয়মের শৃঙ্খল ভাঙ্গিয়া বাহির হইয়া যায়…এ আমি কি বলিতেছি। নিয়ম…শৃঙ্খল হইতে যাবে কীরূপে। নিয়ম পালনযোগ্য, ন্যায় আছে তাই মানুষ আছে, শান্তি আছে, শিক্ষা আছে, সভ্যতা আছে। ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, কুট-সাধু র মধ্যে তফাৎ করে যা তা ত ন্যায়ের প্রতি একনিষ্ঠবদ্ধতা। না হইলে প্রেত - পিশাচ আর সাধকের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আধ্যাত্মিকতা মানুষকে নির্বাণের পথে নিয়ে যায়, মানুষের মনুষ্যত্বকে অমরত্বের সাথে একাত্ম করে - আর আধ্যাত্মিক সাধনা নিয়ম পালন ছাড়া কীরূপে সম্ভব—!

প্রদীপ টি দর্পণ সম্মুখে ধরিলাম। মনে হইল সামুদ্রিক ঝড়ে পর্যুদস্ত এক ময়ূরপঙ্খীর আত্মা দেখিতেছি। আলুথালু বেশ - কেশবিন্যাসের কোনো পরিপাট্য নাই। পরিধেয় বস্ত্র দীপালোকে রক্তাভ-সুবর্ন আঁচ পাইয়াছে। আমি স্বহস্তে শিরবন্ধনী খুলিয়া পার্শ্বে রাখিলাম। দুর্ভোগে পড়িলে বহুবার দেব সিদ্ধার্থর কৃপায় মানুষ নাকি কপালের লিখন পড়িতে পারে…দর্পণে চাহিয়া রহিলাম। তপ্ত কপালের উপর হিমশীতল অঙ্গুলি রাখিয়া চাহিয়া রহিলাম। আলোকিত বর্তনী ক্ষণে ক্ষণে কম্পিত হইতেছে…

 

Series this work belongs to: